৪৩% ভোট বনাম ফাঁকা কেন্দ্র: ডিজিটাল পরিসংখ্যান নাকি ভুতুড়ে ভোটার?
সিলেট ব্যুরো: সকাল থেকে মেঘলা আকাশ আর মাঝেমধ্যে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। নির্বাচনী আমেজ নয়, বরং এক ধরনের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে সিলেটের অলিতে-গলিতে। কিন্তু এই নিস্তব্ধতার মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষণা চমকে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। সরকারি তথ্যমতে, বেলা গড়াতেই ভোট কাস্টিংয়ের হার দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশ!
অথচ বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। সিলেটের উল্লেখযোগ্য ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে এক ভিন্ন দৃশ্য—যেখানে ভোটার নেই, আছে শুধু খাঁ খাঁ করা শূন্যতা। প্রশ্ন উঠছে, এই ৪৩ শতাংশ ভোট কি তবে ভুতুড়ে?
সিলেটের মাঠচিত্র: ভোটার কোথায়?
নগরীর উপকণ্ঠের কয়েকটি কেন্দ্র এবং জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা এলাকার পোলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অলস সময় কাটছে। কোথাও কোথাও দুই-তিনজন ভোটার দেখা গেলেও লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকার সেই চিরচেনা চিত্র নেই। এমনকি অনেক কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে কুকুর ঘুমিয়ে থাকতেও দেখা গেছে।
সিলেটের শাহজালাল উপশহর এলাকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা অবাক হয়ে বলেন,
"সকাল থেকে এলাকার সবাইকে ঘরে বসে থাকতে দেখলাম। কেন্দ্রে গিয়ে দেখি কেউ নেই। তাহলে ৪৩% ভোট হলো কখন? এটা কি ম্যাজিক নাকি অন্য কিছু?"
নির্বাচন কমিশনের দাবি ও বাস্তবের বৈপরীত্য
নির্বাচন কমিশন যখন ৪৩ শতাংশ ভোট পড়ার দাবি করছে, তখন সিলেটের মতো বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রগুলোর এই শূন্যতা বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। সাধারণ ভোটারদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ভোট কি তবে মানুষের বদলে 'অন্য কেউ' দিচ্ছে?
সমালোচকরা বলছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে "সংখ্যা তত্ত্বের কারসাজি" নতুন কিছু নয়। এর আগেও দেখা গেছে ভোটার উপস্থিতি কম থাকা সত্ত্বেও দিনের শেষে অভাবনীয় ভোট পড়ার রেকর্ড। আজকের সিলেটেও কি সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি ঘটছে?
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ভাষ্য
কেন্দ্রে ভোটার না থাকলেও সরকারি হিসাবে ভোট পড়ার হার বেশি হওয়া প্রসঙ্গে এক প্রিজাইডিং অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "আমাদের কাছে যে তথ্য আসে, আমরা সেটাই জানাই।" তবে ভোটারশূন্য কেন্দ্র থেকে কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক ভোট কাস্টিং সম্ভব হলো, সে ব্যাপারে সদুত্তর মেলেনি।
উপসংহার
গণতন্ত্রের উৎস হলো জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ। যখন সরকারি হিসাব আর জনমানুষের অভিজ্ঞতা দুই মেরুতে অবস্থান করে, তখন সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংকট দেখা দেয়। সিলেটের ফাঁকা ভোটকেন্দ্র আর ৪৩ শতাংশ কাস্টিংয়ের এই 'অদ্ভূত রসায়ন' আবারও প্রমাণ করছে যে, পরিসংখ্যান আর বাস্তবতা সবসময় এক পথে হাঁটে না। মানুষ যদি কেন্দ্রে না যায়, তবে এই ব্যালট পেপারগুলো ভর্তি হচ্ছে কার ইশারায়? এটি কি তবে ইতিহাসের আরেকটি 'রহস্যময়' নির্বাচন হয়ে থাকবে?




0 মন্তব্যসমূহ